নিচের কোনটি সাধিত শব্দ ?

Updated: 1 year ago
  • গোলাপ
  • গাছ
  • হাত
  • সম্পাদকীয়
2.8k
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ব্যাকরণে গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার: মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যে শব্দগুলোকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে আর কোনো অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন – হাত, পা, মুখ, চোখ, গোলাপ, গাছ ইত্যাদি। এই শব্দগুলোকে ভাঙলে তাদের মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায় অথবা অর্থহীন হয়ে পড়ে।

সাধিত শব্দ: যে শব্দগুলোকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে একাধিক অর্থপূর্ণ ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। এই শব্দগুলো সাধারণত প্রত্যয়যোগে, উপসর্গযোগে, বা সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয়।

        
  • উপসর্গযোগে: প্র + হার = প্রহার
  •     
  • প্রত্যয়যোগে: চল্ + অন্ত = চলন্ত; নাম + আ = নামা
  •     
  • সমাসবদ্ধ পদ: সিংহাসন (সিংহ চিহ্নিত আসন)

প্রদত্ত বিকল্পগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

        
  • গোলাপ: এটি একটি মৌলিক শব্দ। এটিকে ভাঙা যায় না বা ভাঙলে কোনো অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায় না।
  •     
  • গাছ: এটিও একটি মৌলিক শব্দ। এটিকে ভাঙা যায় না।
  •     
  • হাত: এটিও একটি মৌলিক শব্দ। এটিকে ভাঙা যায় না।
  •     
  • সম্পাদকীয়: এটি একটি সাধিত শব্দ। এটি 'সম্পাদক' শব্দের সাথে 'ীয়' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। এখানে 'সম্পাদক' এবং 'ীয়' উভয় অংশেরই পৃথক অর্থ রয়েছে। 'সম্পাদকীয়' শব্দটি 'সম্পাদক সম্বন্ধীয়' অর্থ প্রকাশ করে।

সুতরাং, 'সম্পাদকীয়' হলো একটি সাধিত শব্দ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago

বাংলা শব্দভাণ্ডারকে বিভিন্ন বিবেচনায় ভাগ করা যায়: ক. উৎস বিবেচনা, খ. গঠন বিবেচনা, গ. পদ বিবেচনা।

ক. উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ

উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উদাহরণ -

আরবি: আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত, তারিখ, হালুয়া ইত্যাদি। 

ফারসি: খোদা, দোজখ, নামাজ, রোজা, চশমা, তোশক, দোকান, কারখানা, আমদানি, জানোয়ার ইত্যাদি। 

ইংরেজি: চেয়ার, টেবিল, কলেজ, স্কুল, পেনসিল, ব্যাগ, ফুটবল, ক্রিকেট, হাসপাতাল, বাক্স, বোতল ইত্যাদি। 

পর্তুগিজ: আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদরি, বালতি ইত্যাদি। 

ফরাসি: কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, আঁতেল, কার্তুজ ইত্যাদি। ওলন্দাজ: হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, টেক্কা, তুরুপ ইত্যাদি।

তুর্কি: চাকর, চাকু, তোপ, দারোগা ইত্যাদি। হিন্দি: পানি, ধোলাই, লাগাতার, সমঝোতা।

 

খ. গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ

গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 

১. মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি। 

২. সাধিত শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি। শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

 

গ. পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়: ১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়াবিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক ও ৮. আবেগ।

বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন, যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি- তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

পদ বিবেচনায় শব্দের এসব শ্রেণিভেদ নিয়ে পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে আলোচনা করা হলো।

Related Question

View All
Updated: 1 year ago
  • নগদ
  • দোকান
  • বোতল
  • পাদরি
427
Updated: 1 year ago
  • পর্তুগিজ
  • ইংরেজি
  • ফারসি
  • ফরাসি
422
Updated: 3 months ago
  • নামাজ
  • রোজা
  • দোজখ
  • জাকাত
486
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই